সাকিব আল হাসান রুবেল :
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম -২ ( কুড়িগ্রাম সদর- ফুলবাড়ী ও রাজারহাট) আসনের ভোটাররা এবার চাইছেন ভোট জমে উঠুক। তাদের মতে, বড় তিন দলের প্রার্থী না থাকলে ভোট জমে না। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের কারনে পর পর দুইবার জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে আ,লীগ। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চলছে ভোটের আলোচনা। পছন্দের দলও প্রার্থীকে জেতাতে চুলচেরা বিশ্লেষন করছেন ভোটাররা। তবে জোট-মাহাজোটে হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে সে সম্ভাবনা। তবে নৌকা পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন হেভিওয়েট তিনজন প্রার্থী।সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস এম আব্রাহাম লিংকন, সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ও কুড়িগ্রাম জেলা যুবলীগের আহবায়ক আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট রুহুল আমিন দুলাল। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মতে, এ আসনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী না থাকায় নৌকার ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীকে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বারবার। এদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে। রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন করবেন না তা স্পষ্ট না। এছাড়া প্রার্থী হিসাবে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসাইন কায়কোবাদের নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির ( জাপার) প্রত্যাশা করছেন বর্তমান সাংসদ সদস্য পনির উদ্দীন আহমেদ।আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দলের জন্য যারা সব সময় কাজ করেছেন, নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় মানুষের পাশে ছিলেন, গণভিত্তিক ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন; এমন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবে দলীয় হাইকমান্ড। ইতোমধ্যেই চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা।
এ ছাড়াও প্রার্থীদের পক্ষে চলছে নানা ধরনের প্রচার-প্রচারণা। এই আসনে আ,লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন ও কুড়িগ্রাম জেলা যুবলীগের আহবায়ক আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট রুহুল আমিন দুলালের নাম। বর্তমান সাংসদ সদস্য পনির উদ্দীন আহমেদ বলেন, জোটগত কিংবা এককভাবে নির্বাচন করলেও এখান থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত। তিনি আরো বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে আমার অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করব। সে সুযোগ দেবেন মহাজোটের শীর্ষ নেতারা।’
আ,লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু বলেন, তার বিগত দিনের কমর্কান্ড, আন্দোলন সংগ্রাম, রাজপথের সংগ্রাম, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, জনগণের সেবা, জনগণের মাঝে তার অবস্থান এসব দিক বিবেচনা করে বিশেষ করে তিনি তৃণমূল পযাের্য় মানুষের সাথে দীঘর্কাল সুনিবিড়ভাবে সম্পর্ক, মানুষের সুখ দুঃখের পাশে দাড়িয়ে আসছেন। যে কারণে তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাকে দল যদি মনোনয়ন দেয়, তাহলে আশা করেন বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন এবং দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন। আ,লীগের প্রত্যাশী রাকসুর সাবেক নেতা, কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত এ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘’এর আগেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু জোটগত কারণে মনোনয়ন পাইনি।
তদুপরি দলের পক্ষে, রাজনীতির পক্ষে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছি।” আশির দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা আব্রাহাম লিংকন রাজনীতির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতে নিজের বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বিশাল সংগ্রহশালা। আইন কলেজ প্রতিষ্ঠা করাসহ তাঁর নানাবিধ সামাজিক কাজগুলোও দলের এবং ইতিহাসের জন্য অনেক মর্যাদার । একজন সুবক্তা হওয়া ছাড়াও তাঁর স্থানীয় ও জাতীয় ভাবে ক্লিন ইমেজ রয়েছে। নিরলসভাবে কাজ করে আসছি এখনো। প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নেত্রীর কথা বলেছি, উন্নয়নের কথা পৌঁছে দিয়েছি।’ আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট রুহুল আমিন দুলাল বলেন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রতিটি মানুষ তাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসে।
গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন, মহাজোটকে দেওয়ার কারনে তিনি পাননি । তাই তিনি বিশ্বাস করেন জনপ্রিয়তা বিবেচনায় দল তাকে মনোনয়ন দেবে। মনোনয়ন পেলে তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন এখান থেকে তিনি বিজয়ী হবেন। আর কুড়িগ্রাম -২ আসনের মানুষের জন্য তাদের চাওয়া-পাওয়া তিনি পূরণ করবেন। তিনি উক্ত আসনের মানুষের পাশে থেকে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চান। যে কারণে দল এবার তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তিনি আশাবাদী। সব মিলিয়ে কুড়িগ্রাম-২ আসনটি আওয়ামী লীগ জোটগত কারণে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে লড়াই হবে দ্বিমুখী। আর জোটগত নির্বাচন না হলে ত্রিমুখী লড়াই হবে জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মাঝে।